খুঁজুন
advertisement
advertisement
সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬ আশ্বিন, ১৪৩৩

গণভোটের রায়ের আলোকে সংবিধান সংস্কার করতে হবে : খেলাফত মজলিস

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮:৩২ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
গণভোটের রায়ের আলোকে সংবিধান সংস্কার করতে হবে : খেলাফত মজলিস

সরকারের বিশেষ কমিটির মতবিনিময় সভা বর্জনের ঘোষণা দিয়েছে দলটি

নিজস্ব প্রতিবেদক:

খেলাফত মজলিসের প্রেস ব্রিফিংয়ে ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ বাস্তবায়নে সর্বদলীয় সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের দাবি; বিশেষ কমিটির মতবিনিময় সভা বর্জনের ঘোষণা।

গণভোটের মাধ্যমে প্রকাশিত জনগণের সুস্পষ্ট রায় ও জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনাকে উপেক্ষা করে সরকারের একতরফা ‘সংবিধান সংশোধন কমিটি’ গঠনের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে খেলাফত মজলিস। একই সঙ্গে বিদ্যমান সংবিধান সংস্কারের পরিবর্তে কেবল লোক দেখানো সংশোধনের উদ্যোগের প্রতিবাদে সরকারের বিশেষ কমিটির মতবিনিময় সভা বর্জনের ঘোষণা দিয়েছে দলটি।

আজ রবিবার দুপুর ১:০০টায় পুরানা পল্টনের মজলিস মিলনায়তনে আয়োজিত এক জরুরি প্রেস ব্রিফিংয়ে দলীয় অবস্থান ও আনুষ্ঠানিক বক্তব্য তুলে ধরেন খেলাফত মজলিস মহাসচিব ড. আহমদ আবদুল কাদের। আমীরে খেলাফত মজলিস মাওলানা আব্দুল বাছিত আজাদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত প্রেস ব্রিফিংয়ে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন নায়েবে আমীর মাওলানা সাখাওয়াত হোসাইন, মাওলানা আহমদ আলী কাসেমী, যুগ্ম মহাসচিব অধ্যাপক আব্দুল জলিল, প্রচার সম্পাদক প্রকৌশলী আবদুল হাফিজ খসরু, কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য এডভোকেট রফিকুল ইসলাম, ইসলামী যুব মজলিস সাধারণ সম্পাদক মাওলানা সোহাইল আহমদ প্রমুখ।

প্রেস ব্রিফিংয়ে লিখিত বক্তব্যে মহাসচিব বলেন, চব্বিশের ঐতিহাসিক জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে হাজারো ছাত্র-জনতার আত্মত্যাগের পর স্বৈরাচারের বিচার, নিরপেক্ষ নির্বাচন ও রাষ্ট্র সংস্কারের লক্ষ্যে ‘জুলাই জাতীয় সনদ-২০২৫’ স্বাক্ষরিত হয়েছিল। পরবর্তীতে এ সনদের ওপর অনুষ্ঠিত গণভোটে দেশের প্রায় ৭০ শতাংশ ভোটার ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়ে সনদের পক্ষে সুস্পষ্ট ম্যান্ডেট প্রদান করেন। গণভোটের রায় অনুযায়ী—নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান পুনর্গঠন, ১০০ সদস্যের উচ্চকক্ষ বিশিষ্ট দ্বি-কক্ষ সংসদ চালু এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতাসহ মৌলিক ৩০টি সংস্কার প্রস্তাব কোনো প্রকার পরিবর্তন ছাড়াই সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এছাড়া খেলাফত মজলিসসহ সর্বস্তরের ইসলামী দল ও সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল সংবিধানের মূলনীতিতে ‘মহান আল্লাহর উপর আস্থা ও বিশ্বাস’ পুনঃস্থাপন করা।

তিনি অভিযোগ করেন, গণভোটের রায় অনুযায়ী নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের একই সাথে ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’-এর সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার কথা ছিল। খেলাফত মজলিসসহ অন্যান্য বিরোধী দল উভয় শপথ গ্রহণ করলেও সরকারি দল (বিএনপি) সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ না নিয়ে জনগণের রায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। একই সাথে বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের সময় প্রণীত গুম প্রতিরোধ, দুদক শক্তিশালীকরণ ও পুলিশ কমিশন সংক্রান্ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশগুলো সংসদে উত্থাপন না করে সরকার কার্যত জনপ্রত্যাশার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে।

ড. আহমদ আবদুল কাদের বলেন, "জনগণের ম্যান্ডেট ছিল সংবিধানের আমূল পরিবর্তন তথা পূর্ণাঙ্গ সংস্কার। অথচ সরকার সংবিধান সংস্কার পরিষদের বদলে একটি নামসর্বস্ব ‘সংবিধান সংশোধন কমিটি’ গঠন করে জনগণকে ধোঁকা দেওয়ার চেষ্টা করছে।" তিনি জানান, সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটি আজকের মতবিনিময় সভায় খেলাফত মজলিসকে আমন্ত্রণ জানালেও, এই কমিটি সংবিধানের মৌলিক সংস্কার না করে কার্যত বিতর্কিত সংবিধানকেই রক্ষার পাঁয়তারা করছে। এ কারণে দলটির শীর্ষ নেতৃত্ব এই কমিটির বৈঠক বর্জনের নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

সরকারকে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে খেলাফত মজলিস নেতৃবৃন্দ বলেন, সংসদীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতার দোহাই দিয়ে যদি জুলাই সনদ ও গণভোটের গণরায়কে পাশ কাটানোর চেষ্টা করা হয়, তবে তা সরকারের জন্য কোনো শুভ পরিণাম বয়ে আনবে না। অবিলম্বে সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী সকল রাজনৈতিক দলের সমন্বয়ে ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’ গঠন করে গণরায় অনুযায়ী সংবিধানের পূর্ণাঙ্গ রূপরেখা বাস্তবায়নের জোর দাবি জানানো হয়।

অনলাইন ডেস্ক

গিধুরিয়ায় কালভার্টের মুখে দেয়াল, পানি নিষ্কাশন বন্ধের অভিযোগ

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩:১৬ পূর্বাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
গিধুরিয়ায় কালভার্টের মুখে দেয়াল, পানি নিষ্কাশন বন্ধের অভিযোগ

ছবিতে বন্ধ কালভার্ট

 মো. সজিব । শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি:

গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার রাজাবাড়ী ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের গিধুরিয়া গ্রামে পানি নিষ্কাশনের জন্য নির্মিত কালভার্টের মুখে দেয়াল নির্মাণ ও কংক্রিট ঢালাই করে পানি চলাচল বন্ধ করে রাখার অভিযোগ উঠেছে। এতে বর্ষা মৌসুমে দুই পাশের বিস্তীর্ণ কৃষিজমিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয় কৃষক ও এলাকাবাসী।

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রায় ৩৫ শতাংশ জমির ওপর নির্মিত কালভার্টটি সরকারি পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার সঙ্গে সংযুক্ত। এর পশ্চিম পাশে প্রায় ১৫০ বিঘা এবং পূর্ব পাশে প্রায় ১ হাজার বিঘা কৃষিজমি রয়েছে। কালভার্টটি মূলত দুই পাশের পানি স্বাভাবিকভাবে চলাচল ও নিষ্কাশনের জন্য ব্যবহার হয়ে আসছিল।

তবে বর্তমানে পূর্ব পাশে দেয়াল নির্মাণ এবং কালভার্টের অংশে কংক্রিট ঢালাই করে পানি চলাচল বন্ধ করে রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। এতে বর্ষা মৌসুমে দুই পাশের পানি স্বাভাবিকভাবে চলাচল করতে না পারলে আশপাশের কৃষিজমি ও বসতবাড়িতে পানি জমে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন তারা।

স্থানীয়রা প্রশ্ন তুলেছেন, জমিটি ব্যক্তিমালিকানাধীন হলেও যদি কালভার্টটি পানি নিষ্কাশনের উদ্দেশ্যে নির্মাণ করা হয়ে থাকে, তাহলে কালভার্টের মুখ বন্ধ করে দেওয়ার ফলে কৃষকদের পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা কীভাবে হবে?

এলাকাবাসীর অভিযোগ, কালভার্ট নির্মাণের কাজটি স্থানীয় বিএনপি নেতা খোরশেদের ঠিকাদারি/কাজের সংশ্লিষ্টতার মাধ্যমে করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে খোরশেদের সঙ্গে কথা বলা হলে তিনি জানান, পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করে দেওয়া হবে।

তবে স্থানীয়দের প্রশ্ন, কালভার্টের বাউন্ডারি দেওয়ার পর পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করার কথা বলা হচ্ছে কেন? পানি চলাচল স্বাভাবিক রাখার প্রয়োজন থাকলে নির্মাণকাজের সময়ই এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া যেত বলে দাবি তাদের।

স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, জমিটি কসমো গ্রুপের মালিক জহির কিনেছেন। জমি কেনার পর সেখানে স্থাপনা বা সীমানা নির্মাণের ক্ষেত্রে পানি নিষ্কাশনের পথ যাতে বন্ধ না হয়, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

এলাকাবাসীর আশঙ্কা, বর্ষা মৌসুমে দুই পাশের পানি চলাচলের পথ বন্ধ থাকলে কৃষিজমির পাশাপাশি আশপাশের বাড়িঘরেও পানি উঠে যেতে পারে। এতে কৃষক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের ব্যাপক দুর্ভোগের সৃষ্টি হতে পারে।

এ বিষয়ে রাজাবাড়ী ইউনিয়নের প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, স্থানীয় কোনো ব্যক্তি লিখিত অভিযোগ দিলে বিষয়টি যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্থানীয় কৃষক ও এলাকাবাসীর দাবি, বিষয়টি দ্রুত সরেজমিনে তদন্ত করে কালভার্টের পানি চলাচলের পথ উন্মুক্ত রাখা এবং স্বাভাবিক পানি নিষ্কাশন নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে জলবায়ু সহনশীলতা বাড়াতে মন্ত্রণালয়ের সাথে আইসিসিসিএডির সমঝোতা স্মারক সই

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮:১২ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে জলবায়ু সহনশীলতা বাড়াতে মন্ত্রণালয়ের সাথে আইসিসিসিএডির সমঝোতা স্মারক সই

আইসিসিসিএডির সমঝোতা স্মারক হস্তান্তর


যোগফল প্রতিবেদন:

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবিলা, প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক জলবায়ু অর্থায়নের সুযোগ কাজে লাগাতে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় এবং ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ক্লাইমেট চেঞ্জ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (আইসিসিসিএডি)-এর মধ্যে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়েছে।

আজ মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে মন্ত্রণালয়ের আন্তর্জাতিক সংস্থা ও সহযোগিতা অনুবিভাগের যুগ্মসচিব বেবী রাণী কর্মকার এবং আইসিসিসিএডি'র রিসার্চ অ্যান্ড পলিসি অ্যাডভাইজার ড. ফজলে রাব্বি সাদেক আহমেদ নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো:  দেলোয়ার হোসেন। তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ।  সচিব বলেন, সমঝোতা স্মারকটি যেন শুধু আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকে। এর আওতায় গৃহীত কার্যক্রম বাস্তবায়নের মাধ্যমে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে কার্যকর অবদান রাখতে হবে। মন্ত্রণালয় ও অধীনস্থ দপ্তর-অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ ও কারিগরি সহায়তার সর্বোচ্চ সুবিধা নেওয়ারও আহ্বান জানান তিনি।

সচিব বলেন, এই উদ্যোগের মাধ্যমে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবিলার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও অর্থায়নের সুযোগ কাজে লাগানোর নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে। সমন্বিত প্রচেষ্টা ও পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে সমঝোতা স্মারকটি সফলভাবে বাস্তবায়িত হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় এবং এর অধীনস্থ অধিদপ্তর ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোর জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে সক্ষমতা বাড়াতে সহযোগিতা করবে আইসিসিসিএডি। পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবিলায় গ্রিন ক্লাইমেট ফান্ডসহ অন্যান্য আন্তর্জাতিক অর্থায়নকারী প্রতিষ্ঠান থেকে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতের জন্য প্রকল্প প্রণয়ন ও অর্থায়নের সুযোগ কাজে লাগানোর ক্ষেত্রে সহযোগিতা করা হবে।

এ ছাড়া মন্ত্রণালয়ের নীতি, কর্মসূচি ও কার্যক্রমে জলবায়ু পরিবর্তন-সংক্রান্ত বিষয়গুলোকে মূলধারায় অন্তর্ভুক্ত করতে কারিগরি সহায়তা, প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক ফোরাম ও পলিসি ডায়ালগে অংশগ্রহণ ও নেতৃত্ব জোরদারে সহযোগিতা করা হবে।

জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক জাতিসংঘের সম্মেলন (কপ)-এ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য প্রশিক্ষণ ও প্রয়োজনীয় সহায়তাও দেবে আইসিসিসিএডি।

এসময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন কর্পোরেশনের মো: মীর হোসেন, মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব নীলুফা আক্তার, মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো: খালেদ কনক, বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. মো: লতিফুল ইসলাম, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের পরিকল্পনা ও মূল্যায়নকোষের চীফ ড: মো: হাবিবুর রহমান, আইসিসিসিডি'র ব্যবস্হাপনা পরিচালক সাকিব হক প্রমুখ। 

অনলাইন নিউজ

কেশবপুরে প্রেসক্লাব দখল ও সাংবাদিকদের ওপর হামলায় আহত ৩, বিতর্কিত কমিটি গঠন

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩:২৩ পূর্বাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
কেশবপুরে প্রেসক্লাব দখল ও সাংবাদিকদের ওপর হামলায় আহত ৩, বিতর্কিত কমিটি গঠন

ছবিতে আহতরা

মেহেদী হাসান রিপন । যোগফল প্রতিবেদন: 

যশোরের কেশবপুর প্রেসক্লাবে নির্বাচনকালীন প্রস্তুতি ভেস্তে দিতে হামলা, ভাঙচুর ও সাংবাদিকদের ওপর সন্ত্রাসী আক্রমণের অভিযোগ উঠেছে উপজেলা বিএনপির প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ওয়াজেদ আলী খান ডাবলু এবং তাঁর সহযোগীদের বিরুদ্ধে। রোববার সকালে ঘটে যাওয়া এই ঘটনায় পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে তিন সাংবাদিক গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

ঘটনাস্থল সূত্রে জানা গেছে, আগামী ২৬ সেপ্টেম্বরের দ্বিবার্ষিক সাধারণ নির্বাচন উপলক্ষ্যে প্রেসক্লাবে দাপ্তরিক কাজ চলছিল। এ সময় সাবেক সভাপতি ডাবলুর নেতৃত্বে বহু বহিরাগত ভবনে ঢুকে বিশৃঙ্খলা ও ভাঙচুর চালায়। এতে দৈনিক লোকসমাজ-এর প্রতিনিধি জয়দেব চক্রবর্তী, দৈনিক কল্যাণ-এর প্রতিনিধি আবদুল্লাহ আল ফুয়াদ এবং দৈনিক সময়ের খবর-এর প্রতিনিধি জাহিদ হাসানসহ বেশ কয়েকজন রক্তাক্ত হন।

অভিযোগ রয়েছে, প্রেসক্লাব অবরুদ্ধ করে নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার পর হামলাকারীরা নিজেদের পছন্দের ৫১ সদস্যের একটি বিতর্কিত আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করে। নতুন এই কমিটিতে মাহাবুর রহমানকে আহ্বায়ক, হারুন-অর রশিদকে সদস্য সচিব এবং ওয়াজেদ আলী খান ডাবলুকে সদস্য করা হয়েছে। ক্লাবের সাবেক সভাপতি আশরাফউজ জামান অভিযোগ করেন, পরিকল্পিতভাবে 'মব' তৈরি করে পেশাদার সাংবাদিকদের আটকে রেখে ক্লাব দখলের মহড়া দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে, ওয়াজেদ আলী খান ডাবলু হামলা চালানোর বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, "অবৈধভাবে দখল হয়ে থাকা প্রেসক্লাব উদ্ধার করা হয়েছে মাত্র।" তিনি পাল্টা অভিযোগ করেন, প্রতিপক্ষের হামলায় মাহাবুর রহমান সবুজ ও সাদেক হোসেন নামে তাঁদের দুই সদস্য আহত হয়ে যশোর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

সমস্যা সমাধানে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে কেশবপুর থানার কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ হাফিজুর রহমান জানান, সাংবাদিকদের দুই গ্রুপের উত্তেজনার খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক পুলিশ পাঠানো হয়। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং উভয় পক্ষকে নিয়ে গোলটেবিল বৈঠকের মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

অনলাইন ডেস্ক